দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে ট্রোল, মিম ও নানা কটাক্ষ। এমনকি সম্পাদনা করে তার জুতার মালা পরানো ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ‘মা’ ধারাবাহিকখ্যাত অভিনেত্রী তিথি বসু। তবে তিথির সেই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও খাবারের প্রশংসা করেন বিশ্বজিৎ। বিশেষ করে গরুর মাংস ও ইলিশের বিভিন্ন পদের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার মুখে পড়েন এই প্রবীণ অভিনেতা।
বিশ্বজিতের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ শুরু হয়। ট্রোল ও মিমের পাশাপাশি সম্পাদনা করে তার গলায় জুতার মালা পরানো ছবিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিশ্বজিতের পক্ষে কথা বলেন ‘মা’ ধারাবাহিকখ্যাত তিথি বসু। তার ভাষ্য, বিশ্বজিৎ একজন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা। মানুষ হিসেবেও তিনি দারুণ। নিজের সততা থেকেই সত্য কথা বলেছেন তিনি। আর বাংলাদেশে গিয়ে কে কী খাবেন, সেটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
তিথি দাবি করেন, বিনোদনজগতের অনেকেই আড়ালে কিংবা প্রকাশ্যে গরুর মাংস খান। তিনি বলেন, তাদের ধারাবাহিকেই এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী ও অভিনেতা ছিলেন, যারা সেটে বসে গরুর মাংস নিয়ে গল্প করতেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, কলকাতার অনেক পরিচিত জায়গায় যখন গরুর মাংস বিক্রি হতো, সেখানেও অধিকাংশ হিন্দু যেতেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত অনেক জনপ্রিয় গায়ক ও টেলিভিশন চ্যানেলের কর্মকর্তাদেরও গরুর মাংস খেতে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিথি আরও বলেন, অনেক মানুষ গরুর মাংস খান, এটাই বাস্তবতা। এমনকি মুসলিমদের তুলনায় হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খান বলেও দাবি করেন তিনি। যারা প্রকাশ্যে এ কথা বলেন না, তাদের মধ্যেও অনেকে হয়তো আড়ালে গরুর মাংস খান।
তার মতে, কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস, সেটি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। সেই খাদ্যাভ্যাস অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
তবে তিথির এই বক্তব্যের পর তাকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘তুমি গরুর মাংস খাও! তোমার প্রতি ভালোবাসা কমে গেল।’ আবার কেউ তাকে এ বিষয়ে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছেন।
ফলে বিশ্বজিতের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কে তিথি বসুর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/অ